ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আজ বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলজার হোসেন ও মুজিবুর রহমান মজু, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সাইফুল্লাহ পাঠান ফজলু ও সেক্রেটারি শহীদুর রহমান শাহীন, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ মুসফিক আহম্মেদ অপূর্ব, জুলাই যোদ্ধা মো. মামুন মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহিদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর তাৎপর্য তুলে ধরা প্রয়োজন। শহিদদের আত্মত্যাগ ও জুলাই যোদ্ধাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়।